
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামের দিনমজুর মো. নূর মোহাম্মদের মেয়ে মোছা. রুকসানা খাতুন মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেছেন। পাশের এলাকার ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ভালো ফল করে রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে এখন তাঁর উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান জানান, অত্যন্ত দরিদ্র এই পরিবারের থাকার মতো ভালো ঘরও নেই। বিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালীন রুকসানার কোনো বেতন নেওয়া হয়নি এবং এসএসসির ফরম পূরণের সময়ও তাঁকে সহায়তা করা হয়েছিল।
পুঠিয়া উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবুদাস-এর সহযোগিতায় রুকসানা কলেজে ভর্তি হতে পেরেছিলেন। তবে সেই কর্মকর্তা বদলি হয়ে যাওয়ার পর এখন শহরে থেকে পড়ার মতো বই-খাতা, মেস ভাড়া ও যাতায়াত খরচের ব্যবস্থা হচ্ছে না। রুকসানার বিবাহিত তিন বোনের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। ফলে পরিবারটির পক্ষে এই পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
একদিকে রুকসানার পড়াশোনা আটকে আছে, অন্যদিকে তাঁর মা রাফিয়া বিবির কিডনি রোগের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। আড়াই বছর ধরে অসুস্থ মাকে গত ১৮ অক্টোবর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে দুই দিন পর চিকিৎসকেরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সেখানে না নিয়ে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ফলে মায়ের চিকিৎসা ও রুকসানার ভবিষ্যৎ পড়াশোনা দুটোই এখন বড় সংকটে রয়েছে।
ছবি: প্রতীকী

